দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুই সাংবাদিককে মারধর, আটকে রাখা এবং তাঁদের মোবাইল ফোন ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর প্রতিনিধি রাব্বি এবং দৈনিক খবরের কাগজ ও সময়ের কণ্ঠস্বরের মেহেরপুর প্রতিনিধি এস এম তারেক।
সাংবাদিক রাব্বি জানান, ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দিতে দেখতে পান। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ দুই শিক্ষক তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এস এম তারেক বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে তাঁরা পরীক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দিতে দেখেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুই শিক্ষক তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁদের ধারণ করা দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে তাঁরা গাংনী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
হামলায় আহত রাব্বি ও তারেককে গাংনী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। জেলার সাংবাদিকেরা ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দায়িত্ব পালনে বাধা, হামলা, আটকে রাখা এবং মোবাইল ফোন ও সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, পরীক্ষা চলাকালে কক্ষে প্রবেশ করতে হলে কিছু নিয়মকানুন মেনে প্রবেশ করতে হয়। তাঁদের ওপর হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। শুধু কথাকাটাকাটি হয়েছিল।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কারা হামলার সঙ্গে জড়িত, কী কারণে ঘটনা ঘটেছে এবং সাংবাদিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম নেওয়া হয়েছে কি না, সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।
এমএস/